জায়গা জমির দুই ধরনের কাগজ হয়ে থাকে:
- জমির দলিল মূলত জমি কেনা-বেচার আইনি চুক্তিপত্র।
- দলিলের মাধ্যমে জমির মালিকানা হস্তান্তর হয়।
- কিছু সাধারণ ধরনের দলিল হলো:
- বিক্রয় দলিল (সেল ডিড)
- হেবার দলিল (দানের দলিল)
- আম-মোক্তারনামা
- জমির খতিয়ান হলো সরকারি নথি, যেখানে জমির মালিকের নাম, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ইত্যাদি তথ্য থাকে।
- খতিয়ানের মাধ্যমে জমির ট্যাক্স প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে সরকার জেনে থাকে যে জমি এখন কার দখলে আছে।
- তবে শুধুমাত্র খতিয়ান দিয়ে জমির মালিক হওয়া যায় না।
খতিয়ানের কয়েকটি ধরন রয়েছে, যেমন:
- সিএস (C.S) খতিয়ান: ব্রিটিশ আমলের রেকর্ড।
- আরএস (R.S) খতিয়ান: পাকিস্তান আমলে সংশোধিত রেকর্ড।
- এসএ (S.A) খতিয়ান: পাকিস্তান আমলে আরেকটি জরিপ খতিয়ান।
- বি এস (B.S) বা বর্তমান খতিয়ান): স্বাধীন বাংলাদেশে হওয়া সর্বশেষ জরিপ।
- খতিয়ান এবং দলিল উভয়ই জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- জমি কেনা-বেচার সময় দলিল এবং খতিয়ান উভয়ই যাচাই করা আবশ্যক।
বাংলাদেশে জমির খতিয়ান মূলত পাঁচ প্রকারের হয়ে থাকে। প্রতিটি খতিয়ানই বিভিন্ন সময়ের ভূমি জরিপের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ভূমি মালিকানা ও দখলের তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
বাংলাদেশে ভূমি জরিপ (Land Survey) বিভিন্ন সময়ে করা হয়েছে এবং প্রতিটি জরিপের ভিত্তিতে নতুন খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়েছে। নতুন জরিপ হলে আগের খতিয়ান অকার্যকর হয়ে যায় না, তবে বর্তমান মালিকানা ও দখলের অবস্থা জানতে সর্বশেষ খতিয়ানই বেশি গুরুত্ব পায়।
কেন করা হয়েছিল?
- এটি ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৮-১৯৪০ সালের মধ্যে প্রথম ভূমি জরিপের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছিল।
- জমির মালিকানা, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ইত্যাদি লিপিবদ্ধ করা হয়।
ব্যবহার:
- এখনো অনেক জায়গায় রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহৃত হয়, তবে এটি সর্বশেষ খতিয়ান নয়।
- যদি জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য নতুন কোনো খতিয়ান না থাকে, তবে C.S খতিয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কেন করা হয়েছিল?
- ১৯২৩-১৯৪০ সালে ব্রিটিশ আমলে এবং পাকিস্তান আমলে (১৯৫৬-১৯৬২) পর্যন্ত ভূমি জরিপ করে এটি প্রস্তুত করা হয়।
- জমিদার প্রথা বিলুপ্তির পর, নতুন মালিকানার ভিত্তিতে এই খতিয়ান তৈরি করা হয়।
ব্যবহার:
- বর্তমানে এটি তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে বর্তমান মালিকানার জন্য আরও নতুন খতিয়ান প্রয়োজন হতে পারে।
কেন করা হয়েছিল?
- পাকিস্তান আমলে (১৯৬৫-১৯৭০) নতুন জরিপের ভিত্তিতে এটি তৈরি করা হয়।
- এর মাধ্যমে ভূমি মালিকানার হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ করা হয়।
ব্যবহার:
- বর্তমানে আদালত ও ভূমি অফিসের অনেক কাজের ক্ষেত্রে এটি রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- তবে এর পরে নতুন জরিপ হলে এটি পুরনো হয়ে যায়।
কেন করা হয়েছিল?
- স্বাধীন বাংলাদেশের পর ১৯৭০-২০০০ সালের মধ্যে সর্বশেষ ভূমি জরিপ করা হয় এবং এই জরিপের ভিত্তিতে বিএস খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়।
ব্যবহার:
- এটি বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত খতিয়ান, কারণ এটি সর্বশেষ মালিকানা ও দখলের তথ্য সংরক্ষণ করে।
- সরকারি ভূমি অফিসে জমির লেনদেন ও রেকর্ড সংশোধনের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য।
কেন করা হয়েছিল?
- এটি মূলত ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ অন্যান্য শহরাঞ্চলে সম্পত্তির রেকর্ড সংরক্ষণের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
- শহর অঞ্চলের জমির মালিকানা, দাগ নম্বর ও দখলের অবস্থান সঠিকভাবে নির্ধারণের জন্য এটি করা হয়।
ব্যবহার:
- নগর এলাকায় জমির মালিকানা সংক্রান্ত কাজের জন্য এটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
- এটি বিএস খতিয়ানের মতোই হালনাগাদ রেকর্ড হিসাবে গণ্য হয়।
| খতিয়ানের নাম | সময়কাল | কেন তৈরি হয়েছিল? | বর্তমান ব্যবহার |
|---|---|---|---|
| C.S (Cadastral Survey) | ১৮৮৮-১৯৪০ | ব্রিটিশ আমলে প্রথম জরিপ | পুরনো মালিকানা যাচাইয়ের জন্য |
| S.A (State Acquisition) | ১৯২৩-১৯৬২ | জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির পর তৈরি | তথ্যসূত্র হিসাবে ব্যবহৃত |
| R.S (Revisional Settlement) | ১৯৬৫-১৯৭০ | পাকিস্তান আমলে ভূমি মালিকানা হালনাগাদ | কিছু ক্ষেত্রে এখনো ব্যবহার হয় |
| B.S (Bangladesh Survey) | ১৯৭০-২০০০ | স্বাধীন বাংলাদেশের ভূমি জরিপ | সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ও গ্রহণযোগ্য |
| C.T.S (City Survey) | ২০০০-এর পরে | শহর এলাকার জমির জন্য | শহর এলাকার জমির রেকর্ড রাখতে ব্যবহৃত |
- বর্তমান মালিকানার জন্য সর্বশেষ (B.S বা C.T.S) খতিয়ান সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য।
- পুরনো মালিকানা বা জমির ইতিহাস জানার জন্য C.S, S.A, এবং R.S খতিয়ান প্রয়োজন হতে পারে।
- আদালতে মামলা বা জমির মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা থাকলে, সব খতিয়ানই দরকার হতে পারে।
তাহলে, তুমি যদি নিজের জমির খতিয়ান দেখতে চাও, তাহলে B.S (বা শহর হলে C.T.S) খতিয়ান খোঁজা উচিত। যদি জমির পুরনো ইতিহাস দেখতে চাও, তাহলে C.S → S.A → R.S → B.S খতিয়ান পর্যায়ক্রমে দেখতে হবে।